ফায়ার সার্ভিস হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটির পুরো নাম হলো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এটি মূলত বাংলাদেশের মানুষদের বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সাহায্য সহযোগিতা ও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান মূলত অগ্নি নিয়ন্ত্রণ কারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের যে কোথাও আগুন লাগলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসকে দেখা যায়। তারা সেই স্থানের আগুন নিভানোর কাজ করে। এর পাশাপাশি অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে প্রেরণ সহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মানুষকে ব্যাপক ভাবে সহযোগিতা করে।
তবে অনেক সময় তারা সঠিক তথ্যের অভাবে দ্রুত সেই স্থানে যেতে পারে না, এবং ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ সহ ক্ষয়ক্ষতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে পারে না। কেননা তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া ব্যক্তি তাদের কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে পারে না। এ কারণেই তারা দুর্ঘটনা স্থানে দ্রুত পৌঁছাতে পারে না। তারা যদি দুর্ঘটনার সঠিক সংবাদ পায়, তাহলে তারা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ও মানুষের জীবন বাঁচাতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে কর্মকর্তার ব্যক্তিরা সব সময়ে নিজেদের কে প্রস্তুত রাখে। তারা কোন দুর্ঘটনার সংবাদ পেলেই ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই তারা উদ্দেশ্যেই বের হয়ে যায়। সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করার জন্য, তার সব সময় চায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করে, তবে অনেক সময় তাদের কে সঠিক তথ্য দিতে পারেনা সাহায্য চাওয়া ব্যক্তিরা।
তাই আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। ফায়ার সার্ভিসে কল করার পূর্বে আপনাকে কেমন মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে। ফায়ার সার্ভিসে কল করার পূর্বে আপনাদের কে কোন কোন বিষয় গুলোতে সতর্ক থাকতে হবে। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কি ধরনের তথ্য প্রদান করতে হবে। এই বিষয় গুলি ও তথ্য প্রদান করতে গিয়ে কোন কোন বিষয় গুলোর দিকে নজর বা খেয়াল রাখতে হবে। তাই চলুন, বেশি কথা না বাড়িয়ে ফায়ার সার্ভিসে কল করার পূর্বে কোন কোন বিষয় গুলির প্রতি নজর ও খেয়াল রাখতে হবে তা জেনে নেওয়া যাক-
আমরা আগে ও একটি পোস্টে একটি পোস্টে ফায়ার সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে উপস্থাপন করেছিলাম। আমরা সেখানে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন গুলির নাম্বার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। এবং আমরা সেই পোস্টে বলেছিলাম যে আমরা ভবিষ্যতে আপনাদের জন্য বাংলাদেশের সকল বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নাম্বার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি, আপনারা ফায়ার সার্ভিসে কল করার পূর্বে কোন কোন বিষয় গুলোর দিকে নজর দিবেন বা খেয়াল রাখবেন। তবে আমরা যেহেতু বলেছি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাকি সব বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর হেল্পলাইন নাম্বার বা কন্টাক্ট নাম্বার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ
যে যে কারণে ফায়ার সার্ভিসকে কল করবেনঃ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হলো একটি জরুরী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তারা বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে সেবা দেওয়ার জন্য ২৪ ঘন্টায় প্রস্তুত থাকে। অনেকেই আমরা মনে করি, ফায়ার সার্ভিস বুঝি শুধুমাত্র অগ্নি রোধক হিসেবেই কাজ করে। কিন্তু না ফায়ার সার্ভিস এছাড়াও অনেক গুলো সেবা প্রদান করে থাকে। যেমন: যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় হোক না কেন? যেমন: সড়ক দুর্ঘটনা, নৌ দুর্ঘটনা, বিমান দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, কোন দুর্ঘটনায় আটকে পড়া ব্যক্তি কেউ উদ্ধ, শুধু মাত্র ব্যক্তি না। কোন পশু পাখি ও কোন ধরনের দুর্ঘটনা সম্মুখীন হলে তাদের কে উদ্ধার করার কাজও করে থাকে, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দক্ষ কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জরুরী হেল্পলাইন নাম্বার হলো: ১৬১৬৩ (16163)
এছাড়া আপনারা তাদের সঙ্গে যে যে কারণে যোগাযোগ করতে পারেন তা হলো ফায়ার প্রশিক্ষণ নিতে, এম্বুলেন্স সেবা পেতে, ফায়ার রিপোর্ট পেতে, এছাড়াও বিভিন্ন প্রয়োজনে আপনারা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
ধৈর্য সহকারে মাথা ঠান্ডা করে কল করুনঃ
কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে থাকা ব্যক্তি অবশ্যই আতঙ্কিত হয়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে ফায়ার সার্ভিসে কল করার পূর্বে এ আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ধৈর্য সহকারে ধীর-স্থির ভাবে আপনাকে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। কেননা তারা তথ্য পেলে তবে আপনার গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে পারবে। আপনি তথ্য না দিয়ে শুধু যদি বলতে থাকেন আগুন লাগছে, তাড়াতাড়ি আসেন, তাড়াতাড়ি আসেন, আগুন লাগছে, আগুন, আগুন এ ধরনের কথা যদি আপনি বলতে থাকেন। তাহলে তারা আপনার কাছে সঠিক তথ্যের অভাবে পৌঁছতে পারছে না। আপনার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য লাইনটি কেটে দিতেও পারছে না। এর জন্য আর একজন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তি ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।
তাড়াহুড়া না করে, সুস্পষ্ট ভাবে তথ্য প্রদান করাঃ
দুর্ঘটনা দেখে ফায়ার সার্ভিস কে কল দিয়ে তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। কেননা তাড়াহুড়া করে তথ্য দিতে গিয়ে অনেক সময়ই ভুল তথ্য মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে তারা সঠিক সময় আপনাদের কাছে পৌঁছতে পারে না। তাই তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য সহকারে সুস্পষ্ট ভাবে সময় নিয়ে তথ্য প্রদান করুন। কেননা এখানে তথ্য প্রদান করতে গিয়ে একটু সময় লাগলে ও তাড়াহুড়া করে অস্পষ্ট তথ্য প্রদান করা থেকে একটু সময় ব্যয় করা ভালো। তবুও তাড়াতাড়ি সেবা পাওয়ার যাবে।
দুর্ঘটনার স্থানে থাকা ব্যক্তির নাম্বার প্রদান করাঃ
অনেকেই রয়েছে যারা ফায়ার সার্ভিস এর কাছে কল অথচ তিনি দুর্ঘটনায় স্থানে নাই। তাই দুর্ঘটনায় স্থানে কি ঘটছে সেটি জানা যায় না। তাই আপডেট পাওয়ার জন্য দুর্ঘটনায় স্থানে থাকা ব্যক্তির নাম্বার প্রদান করা উচিত। এমন ও অনেক দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তি চলন্ত গাড়িতে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনা দেখেছে। কিন্তু তিনি শিওর নয় যে, সত্যি দুর্ঘটনা হয়েছে কিনা? তাই আপনি যদি দুর্ঘটনায় স্থানে না থাকেন, তাহলে অবশ্যই অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি যিনি দুর্ঘটনা স্থানে রয়েছে তার ফোন নাম্বার অবশ্যই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদেরকে প্রদান করুন। তাহলে তারা দুর্ঘটনার আপডেট নিতে পারবে।
কি ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছেঃ
ফায়ার সার্ভিসকে কল করে তথ্য দেওয়ার সময় অবশ্যই মনে রাখবেন। কি ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে এটি তথ্য দেওয়া উচিত। কেননা বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে তারা রওনা দেয়। যেমন: সাধারণ অগ্নিকাণ্ডের জন্য এক রকম, কেমিক্যাল অগ্নিকাণ্ডের জন্য এক রকম, ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের জন্য এক রকম প্রস্তুতি, বাসা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের জন্য এক রকম প্রস্তুতি, পানিতে ডোবা দুর্ঘটনার জন্য এক রকম প্রস্তুতি, কোথাও আটকে পড়েছে এ রকম দুর্ঘটনার জন্য এক রকম প্রস্তুতি, সড়কের দুর্ঘটনা ঘটেছে এর জন্য এক রকম প্রস্তুতি, এ রকম বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই রওনা দেয়। তাই কি ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে অবশ্যই সেটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদেরকে প্রদান করবেন।। তাহলে তারা তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে, প্রয়োজনীয় সব জিনিস বা প্রযুক্তি সঙ্গে নিয়ে আসবেন। এবং দুর্ঘটনার হাত থেকে জান ও মাল কে রক্ষা করতে পারবেন।
দুর্ঘটনার স্থানঃ
অবশ্যই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কে কল করার সময় তাদের কে দুর্ঘটনার যথাযথ স্থান সঠিক ভাবে উপস্থাপন করবেন। তাহলেই তারা দ্রুত গতিতে আপনার দুর্ঘটনায় স্থানে পৌঁছতে পারবে। যেমন যেই স্থানে দুর্ঘটনা হয়েছে সেই স্থানের নাম, সেই স্থানের রোড এর নাম, দুর্ঘটনার আশেপাশের পুসিদ্ধ কোন স্থানের নাম, যেমন: স্কুল, কলেজ, বাজার, মার্কেট এছাড়াও কোন রাস্তা দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হবে সেটিও তাদেরকে বলে দিবেন। এমন ও রয়েছে কাছাকাছি একই স্থানের নাম একই রকম সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কে নির্দিষ্ট করে বলবেন। তাহলে তারা সময় মতো সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারবে। আর নির্দিষ্ট করে না বললে তারা বুঝতে না পারার কারণে হয়তো অন্য স্থানে চলে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট স্থান প্রদান করবেন।
তথ্য ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারঃ
আপনি লোকেশন প্রদান করার ক্ষেত্রে চাইলে, গুগল ম্যাপ এর লোকেশন শেয়ার করতে পারেন। এক্ষেত্রে লোকেশন বা দুর্ঘটনার স্থান ভুল হবার সম্ভাবনা খুবই কম। ম্যাপের লোকেশন শেয়ার করলে তারা খুব সহজেই আপনার নির্দিষ্ট দুর্ঘটনায় স্থানে পৌঁছাতে পারবে। বর্তমানে সময়ে সকল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন এই ফেসবুক বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে আপনি খুব সহজেই আপনার দুর্ঘটনা স্থানের লোকেশন করতে পারবেন।
এছাড়া ও ফায়ার সার্ভিসকে কল করার পূর্বে আপনাকে যে ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে তা হলো প্রথমেই আপনি আপনার পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবদের কাছে কল না করে, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কল করুন। এছাড়াও পানির উৎস আশে পাশে আছে কিনা? তার তথ্য প্রদান করুন। যদি পানির উৎ আশে পাশে না থাকে, তাহলে তা তাদের কে বলুন। তাহলে তারা দূরবর্তী স্থান থেকে পানি আনার প্রস্তুতি নিয়েই রওনা দিতে পারবেন। সার্ভিসকে কল করার জন্য এটি ফায়ার সার্ভিস এর নাম্বার কিনা? তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মিসকল প্রদান না করে, নিশ্চিত হয়ে এক বারের কল করুন। মোবাইল ফোন বন্ধ রাখবেন না বা ব্যস্ত রাখবেন না। কেননা তারা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে দুর্ঘটনার আপডেট নেওয়ার জন্য। এছাড়াও দুর্ঘটনার যদি সমাধান হয়। তাহলে আপনার কাছ থেকে আপডেট নিয়ে তারা পথের মধ্যে থেকেই ফিরে যেতে পারবেন এবং অন্য দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা প্রদান করতে পারবেন। এছাড়াও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে থাকুন এবং তাদের কে তথ্য প্রদান করুন। আর আমরা উপরে বলেছি প্রথমেই বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারকে ফোন না করে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করুন। এটির কারণ হলো আপনার বন্ধুবান্ধব বা পরিবারকে ফোন করলে তারা এসে আপনাকে ফায়ার সার্ভিসের মত এতটা সহায়তা করতে পারবে না। আর আপনি যদি তাদের কে ফোন করার পূর্বে ফায়ার সার্ভিস কে ফোন করেন। তাহলে তারা এসে আপনাকে সহায়তা করতে পারবে এবং দ্রুত আসতে পারবে।
আশা করি, উপরের তথ্য থেকে আপনারা বুঝতে পেরেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পূর্বে কি ধরনের সর্তকতা বা খেয়াল রাখতে হবে। আপনি যদি তাদের কে ফোন করার পূর্বে এই ধরনের সতর্কতা বা খেয়াল রাখেন এবং ধৈর্য সহকারে তথ্য প্রদান করেন। তাহলে তারা খুব দ্রুত গতিতে আপনার দুর্ঘটনায় স্থানে এসে আপনাকে সহায়তা করতে পারবে। তারা ২৪ ঘন্টা আপনাকে সেবা প্রদান করার জন্যই প্রস্তুত রয়েছে
প্রতিদিন এ রকম নিত্য নতুন টিপস মূলক আপডেট পাওয়ার জন্য "অল টিপস বাংলা" ওয়েবসাইট এ নিয়মিত ভিজিট করুন।
