ঈদের দিনের সুন্নত কাজ । Eider diner sunnot kag.

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
" সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমজান মাস পেলো, অথচ নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারলো না।
--( সুনানে তিরমিজি- ৩৫৪৫)


উপরোক্ত হাদীসটি কে নিম্নে সম্পূর্ণ ভাবে উপস্থাপন করা।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তার নাক ভূলুন্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্তু সে আমার উপর দরুদ পাঠ করেনি। ভূলুণ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমজান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুণ্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনীত হলো, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আব্দুর রহমানের রিওয়াইয়াতে কিংবা "যে কোন একজন" কথাটুকুও আছে।

এই মাসের মহৎ ও গুরুত্ব এতটাই যে, এই মাসে আল্লাহ তা'আলা আসমানের দরজাসমূহ কে খুলে দেন এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেন ও শয়তানগুলোকে শিকলবন্দি করে রাখেন। চলুন এই সম্পর্কে একটি সহি হাদিস দেখি যা।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলতেন, আল্লাহর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেনঃ রমজান মাস আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকল বন্দী করে দেয়া হয়।
--(সহিহ বুখারী- ১৮৯৯)

এই মাসে আল্লাহ তা'আলা মানুষের জীবনের পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। তবে এই পূণ্যের অধিকারী শুধু মত মাত্র সেই ব্যক্তি হয়। যে ব্যক্তি রমজান মাসে পূণ্যের আশায় সাওম বা ব্রত পালন করে। আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় নিম্নে লিখিত সহিহ বুখারি হাদিস থেকে যেখানে বলা হয়েছে।

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমান সহ পূণ্যের আশায় রমজানের সিয়াম ব্রত পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
--( সহিহ বুখারী- ৩৮)

উপরোক্ত কথাগুলো থেকে ও বড় একটি কথা রমজান মাসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে মহিমান্বিত রাত। যখন সাহাবী ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম তার উম্মতের বয়স নিয়ে চিন্তিত, তখনই আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদের সূরা আল-কদর বলছেনঃ এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম একটি রাতের কথা। যা রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে আছে। আর এই একটি রাতের ইবাদতেই ৮৩.৩৩ বছর এবাদত করার সময় সমান।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমজানের ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। সুলায়মান ইবনু কাসীর (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
--( সহিহ বুখারী- ২০১৪)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল ক্বদর-এ ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তাঁর অতীতের গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হবে।
--( সহিহ বুখারী, ইফা. ১ম খন্ড, হাদিস নং- ৩৪)

এতক্ষণ তো আমরা জানলাম রমজানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস আর উপরোক্ত হাদীসে ৮৩.৩৩ বছর ইবাদতের সমান ফজিলত বর্ণিত আছে। তাই একজন মু'মিন মুসলমানের কাছে অনেক ফজিলতপূর্ণ মাসটি। আজকে আমাদের থেকে এই মাসটি চলে যাচ্ছে, যদি আল্লাহ তা'আলা আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাহলে আবার এক বছর পর এই মাসে পাব। যাই হোক সময় তো প্রবাহিত হওয়ার জন্যেই আর এই গুরুত্বপূর্ণ মাস চলে যাওয়ার পর নিজের ঈমানকে দৃঢ় করার জন্য ইসলাম অন্য মাসেও কিছু সুন্নত প্রদান করেছেন। তার মধ্যে ঈদের দিনে ও কিছু সুন্নত কাজ রয়েছে। চলুন কথা না বাড়িয়ে সেই সকল সুন্নত গুলো কে দেখে নেওয়া যাক। 

জেনে নিন ঈদের দিনের ১৩ টি সুন্নতঃ

১.. অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। [বায়হাকী, হাদীস নং- ৬১২৬]

২.. মিসওয়াক করা। [তাবয়ীনুল হাকায়েক- ১/৫৩৮]

৩.. গোসল করা। [ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ১৩১৫]

৪.. শরীয়ত সম্মত সাজসজ্জা করা। [বুখারী- ৯৪৮]

৫.. সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা। [বুখারী- ৯৪৮, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং- ৭৫৬০]

৬.. সুগন্ধি ব্যবহার করা। [ মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং- ৭৫৬০]

৭.. ঈদুল ফিতর ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টি জাতীয় যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া। তবে ঈদুল আযহাতে কিছু না খয়ে ঈদের নামাজের পর নিজের কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম। [বুখারী হাদিস নং- ৯৫৩, তিরমিজি হাদিস নং- ৫৪২, সুনানে দারেমী হাদিস নং- ১৬০৩]

৮.. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। [আবূ দাউদ হাদীস নং- ১১৫৭]

৯.. ঈদুল ফিতর ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করা। [দারাকুতনী, হাদীস নং- ১৬৯৪]

১০.. ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করা, বিনা অপরাগতায় মসজিদে আদায় করা। [বুখারী হাদীস নং- ৯৫৬, আবূ দাউদ হাদীস নং- ১১৫৮]

১১.. যে রাস্তায় ঈদগাতে যাবে, সম্ভব হলে ফিরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরা। [বুখারী হাদীস নং- ৯৮৬]

১২.. পায়ে হেটে যাওয়া। [আবু দাউদ, হাদীস নং- ১১৪৩]

১৩.. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার সময় আস্তে আস্তে তাকবীর পড়তে পরতে যাওয়া। 
তবে ঈদুল আযহায় যাবার সময় পথে তাকবীর আওয়াজ করে পড়তে থাকবেন। [মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং- ১১০৫]

রমজানের মতো ফজিলতপূর্ণ মাসকে বিদায় দেওয়ার পর। এই রকম সুন্নত গুলো কে পরের ১১ টি মাসে সঠিক ভাবে পালন করা। ও  ঈদের দিনের ১৩ টি সুন্নতকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সঠিক ভাবে পালন করার তৌফিক দান করুক। (আমিন)

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form