বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সম্মানিত মুসলিম দর্শকবৃন্দ, আসলামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওবারাকাতুহি। অন্য অন্য জাতি বা ধর্মাবলম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকে আমরা আমাদের এই ওয়েবসাইট "অল টিপস বাংলায়" আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব শিক্ষা বিষয়ক কিছু কথা। যেখানে আমরা বলব আমাদের জীবনে আফসোস সম্পর্কে কিছু কথা। যেই আফসোস গুলো আমাদের জীবনে থাকা ঠিক না। তাই চলুন কথা না বাড়িয়ে আমরা আমাদের জীবনের ৮ টি আফসোস নিয়ে কথা বলি। এই আফসোস গুলো আমাদের জীবনের রাখা উচিত নয়।
১.. কখনো নিজের রূপ চেহারা বা গায়ের রং নিয়ে আফসোস করবেন না। কেননা আমাদের একটি কথা মাথায় রাখা উচিত আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এমন ভাবে সৃষ্টি করেছেন, হয়তো তার ভালো লেগেছে বলেই। তাছাড়া ও আল্লাহ তা'আলা কুরআনে সূরা আজহাবে উল্লেখ করেছেন, আমি তো মানুষ কে সৃষ্টি করেছে সুন্দরতম আকৃতিতে। তাই আমাদের নিজের রূপ চেহারা বা গায়ের রং নিয়ে আফসোস করা কখনই উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তা'আলার নিজেই সাক্ষী দিয়েছেন যে, আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম আকৃতির। আর আল্লাহ তা'আলা যখন নিজেই বলতেছেন এই কথা তখন তার কথার ওপর আফসোস করা কখনই উচিত নয়।
২.. অর্ধবিত্ত, ধন-সম্পদ নিয়ে কখনো আফসোস করবেন না। আপনার অবস্থান যেমনই হোক না কেন? আপনি আপনার যা আছে তাই নিয়েই কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। আর সব সময় উপরের ব্যক্তিকে না দেখে আপনার নিচে যে ব্যক্তি রয়েছে তাকে দেখুন অর্থাৎ আপনার থেকে বেশি দরিদ্র যে ব্যক্তি তার দিকে দেখুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন তার থেকে আপনি কতটা ভালো হয়েছে।
৩.. প্রিয় মানুষ জীবন থেকে হারিয়ে গেলে তাঁর জন্য আফসোস রাখবেন না। বরং আল্লাহর চেয়েছেন বলেই তিনি আপনার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে, এটিকে মেনে নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে শিখুন। কেননা মানুষ বলতেই মরণশীল। কোনো না কোনো একদিন আমাদের সকলকে এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে সেই পরকালে চলে যেতেই হবে।
৪.. কখনও নিজের অস্তিত্ব নিয়ে আফসোস করবেন না। কেননা আপনি যেমন আছেন, যা আছেন সেটা কে মেনে নিয়ে জীবনে এগিয়ে চলতে শিখুন। কেননা নিজের উপর আফসোস করে আপনি মানসিক কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।
৫.. কখনো নিজের পরিবারকে নিয়ে আফসোস করবেন না। আপনার পরিবার যেমনই হোক না কেন আপনি সেই পরিবারের ওপর কৃতজ্ঞ থাকুন। এটা ভেবেই যে, আপনার জন্ম কোনো এতিমখানায় হয়নি। আপনার জীবন কোন এতিমখানায় কাটেনি। তাই আল্লাহ ও আপনার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
৬.. জীবনে কখনো ভুল মানুষকে ভালোবেসে আফসোস করবেন না। কেননা আপনি আপনার জীবন থেকে হারিয়েছেন খারাপ মানুষ কে, কিন্তু তারা হারিয়েছে আপনার মতো ভালো মানুষ কে। তাই আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া যাপন করুন।
৭.. আপনার মন যদি নরম আর ইমোশনাল হয় তাহলে কখনো সেটা নিয়ে আফসোস করবেন না। কারণ এগুলো ভালো ব্যক্তিদের গুণাবলী। এছাড়া ও নিজের মন নরম হওয়ার একজন মুমিন ব্যক্তির গুণাবলীর সঙ্গে মিল রয়েছে।
৮.. কখনো নিজের পেশা কে নিয়ে আফসোস করবেন না। প্রতিটি হালাল কাজ শতশত হারামের থেকে উত্তম আর আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল হারাম খাদ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছে এবং হালাল খাদ্য ও হালাল উপার্জন কে উত্তম বলে ঘোষণা করেছে। তাই আপনার পেশা যাই হোক না কেন? যদি সেটি হালাল হয় তাহলে সেটিকে নিয়ে আফসোস করার বদলে আল্লাহ তা'য়ালার প্রতি শুকরিয়া যাপন করা। একজন প্রকৃত মুসলিমের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
বর্তমান সময়ে আমাদের পৃথিবীতে শুধু আফসোস আর আফসোস। আমার এটা নাই কেন? আমার উঠানেই কেন তার ওটা আছে কেন? আমার ওটা নেই কেন? শুধু আফসোস আর আফসোস এই আফসোস এর মাধ্যমেই আমরা আমাদের জীবনকে শেষ করে ফেলি। আমরা কখনো এই সব আফসোস এর মধ্যে সেই ব্যক্তির দিকে তাকাই না যে আমাদের থেকেও খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে, শুধু আমরা আমাদের উপরের ব্যক্তিকে দেখতে পায় এবং তার মতো হতে চাই। আমাদের নিচে যে ব্যক্তি টা দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারছি না সেই ব্যক্তির দিয়ে কখনো তাকাই না। তাই আমাদের সকলেরই উচিত আমাদের চাহিদা ও আফসোস কে সীমাবদ্ধ রাখা এবং নিজের কর্ম ও আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা করা।
