বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সম্মানিত মুসলিম দর্শকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহি অন্য অন্য জাতি বা ধর্মবলম্বীদের জানাই, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রিয় দর্শক বৃন্দ আশা করি, আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ায় আপনারা সকলে ভালো আছেন। প্রতিদিনের মতো আজকে ও আপনাদের জন্য নিয়ে হাজির হয়েছি নতুন একটি তথ্যমূলক পোস্ট। আর আজকের পোষ্টের প্রধান বিষয়বস্তু হলো আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআন। অর্থাৎ আজকে আমরা আমাদের এই পোস্টে আধুনিক বিজ্ঞানের কিছু আবিষ্কার ও ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ গ্রন্থ আল কুরআন এর কিছু আয়াত আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান যা আজকে আবিষ্কার করেছে। সেই সকল তথ্য আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ গ্রন্থ আল কোরআনের রয়েছে। তাই আজকে আমরা আমাদের এই পোষ্টের নাম দিয়েছি, আধুনিক বিজ্ঞান ও আল কুরআন। আমরা সকলে জানি যে, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান খুব অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বিজ্ঞান মানুষকে এমন এমন কিছু তথ্য দিয়েছে এবং এমন এমন কিছু আবিষ্কার মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছে। যা অতীতে ছিল শুধুমাত্র কল্পনা। কিন্তু বিজ্ঞান তাকেই আজ সম্ভব করে দেখিয়েছে এবং মানুষের জীবনকে করেছে অনেক সহজ। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, এয়ার কুলার, বাতি, ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র সহ বিভিন্ন ধরনের আবিষ্কার করেছে বিজ্ঞান। আর এই সব আবিষ্কার করে তুলেছে মানুষের জীবনকে আরও সহজ। তবু বিজ্ঞান যা আজ আবিষ্কার করেছে, তার কিছু তথ্য আজ থেকে ১৪৫০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে বর্ণিত ছিল।
যারা মুসলিম দর্শক বিন্দু রয়েছে, তাদেরকে কোরআন সম্পর্কে বেশি কিছু বলার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা তারা এই কোরআন সম্পর্কে খুব ভালো জানে। তাদের কাছে এই গ্রন্থটি কি? এবং কত পবিত্র সেটা একমাত্র তারাই জানে। তবে যারা অমুসলিম বা অন্য ধর্মের দর্শকবৃন্দ রয়েছে, তাদের জন্য একটু বলা দরকার। এই কুরআন মহান সত্তা একমাত্র প্রভু আল্লাহ তা'আলা থেকে প্রদত্ত একটি কিতাব। যা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর উপর অবতীর্ণ হয়। এই কুরআনে কোন ভুল নেই এবং মুসলমানদের কাছে এটি খুবই পবিত্র একটি গ্রন্থ। মুসলমানদের জীবন পরিচালনার জন্য কুরআনে দিক নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। এছাড়াও মুসলমানরা আরও একটি কিতাবকে অনুসরণ করে। যার নাম হাদিস যা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর মুখ থেকে নিঃসরিত বাণী। আর মুসলমানরা মনে প্রাণে এই দুই গ্রন্থকে বিশ্বাস করে এবং পবিত্র বলে মনে করে এবং তারা যথাসাধ্য এই দুই গ্রন্থকে মেনে চলার চেষ্টা করে।
বর্তমান সময়ের সকল মানুষ এই আধুনিক বিজ্ঞান এর সম্পর্কে জানে, তারা জানে যে, বিজ্ঞান তাদেরকে কি দিয়েছে। এবং বিজ্ঞান কি ধরনের তথ্য পৃথিবীতে উপস্থাপন করেছে। সকল মুসলমান এরাও জানে যে, কোরআন কতটুকু সত্য এবং এটি কত পবিত্র একটি গ্রন্থ। আর আজকে যেহেতু আমরা আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। তাই আমাদের আজকের পোস্টে আমরা বিজ্ঞানের কিছু বর্তমান সময়ের আবিষ্কার ও আজ থেকে ১৪৫০ বছর আগে কুরআন যা বলেছে তার কিছু তথ্য এখানে উপস্থাপন করব। তাই চলুন, বেশি কথা না বাড়িয়ে আমাদের পোস্টের মূল প্রসঙ্গে চলে যাওয়া যায়-
- আধুনিক বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে এখন জানতে পেরেছে যে, চাঁদের কোন নিজস্ব আলো নেই। তবে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের সূরা ফুরক্কানের ৬১ নাম্বার আয়াতে এই কথা প্রায় ১৪৫০ বছর আগে আল্লাহ তা'আলা হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন।
- আধুনিক বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে মাত্র ২০০ বছর আগে জানতে পেরেছে যে, চাঁদ এবং সূর্য নিজের কক্ষপথে ভেসে চলে। কিন্তু মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন এর সূরা আম্বিয়া ৩৩ নাম্বার আয়াতে এ কথা প্রায় ১৪৫০ বছর আগে আল্লাহ তা'আলা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর মাধ্যমে মানব সম্প্রদায় কে জানিয়েছেন।
- আধুনিক বিজ্ঞান কিছু বছর আগে তাদের গবেষণা দিয়ে আবিষ্কার করেছে যে, মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা হাতের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা যায়। কিন্তু মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ১৪৫০ বছর আগে এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন। সূরা কিয়ামাহ'র ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে।
- আধুনিক বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে আবিষ্কার করেছে , বিগ ব্যাং থিওরি মাত্র ৪০ বছর আগে। তবে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের সূরা আম্বিয়া ৩০ নম্বর আয়াতে এই কথা প্রায় ১৪৫০ বছর আগে জানিয়েছেন।
- আধুনিক বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে, পানিচক্রের আবিষ্কার করেছে বেশিদিন হয়নি। কিন্তু মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা যুমার ২১ নম্বর আয়াতে এই কথা আল্লাহ তা'আলা প্রায় ১৪৫০ বছর আগে জানিয়েছেন।
- আধুনিক বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে আবিষ্কার করেছে যে, লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানি এক সঙ্গে মিশ্রিত হয় না। কিন্তু এই তথ্যই আল্লাহ তা'আলা পবিত্র আল কুরআনে প্রায় সাড়ে ১৪৫০ বছর আগে সূরা ফুরক্কানের ২৫ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে মানব সম্প্রদায় কে জানিয়েছেন। যে লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানি একসঙ্গে মেশেনা।
- আধুনিক বিজ্ঞান বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়ে আজ আবিষ্কার করেছে যে, ডান দিকে ফিরে শুইয়া থাকলে বা ঘুমালে হার্ট সব থেকে ভালো থাকে। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে ইসলাম মানব সম্প্রদায়কে এবং ইসলাম ধর্মবলম্বীদের কে ডান দিকে ফিরে শোয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
- আধুনিক বিজ্ঞান বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়ে আবিষ্কার করেছে যে, পিপীলিকা তাদের মৃত দেহকে কবর দেয় এবং এদের নিজস্ব বাজার পদ্ধতি রয়েছে। তবে এই তথ্যকে আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র আল কুরআনের সূরা নামল এর ১৭ ও ১৮ নাম্বার এই বিষয়টির ধারণা দিয়েছেন, আল্লাহ তা'আলা মানব সম্প্রদায় কে।
- আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান তাদের গবেষণা দিয়ে আবিষ্কার করেছে যে, মাদকদ্রব্য বা মদ পান মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এটি লিভারের ক্ষতিসাধন করে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে মাদকদ্রব্য মদ পান কে মুসলমানদের জন্য হারাম বলে ঘোষণা করেছে।
- আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে আবিষ্কার করেছে যে, শূকরের মাংস মানব দেহের লিভার ও হার্টের জন্য খুব ক্ষতিকর। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম শূকরের গোশতকে হারাম করেছে।
- আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান তাদের গবেষণা চালিয়ে কিছুদিন হলো আবিষ্কার করেছে, রক্ত পরিসঞ্চলন ও দুধ উৎপাদনের ব্যাপারটি। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআনের সূরা মুমিনূনের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়টির বর্ণনা করেছে।
- আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান কিছুদিন হলো জেনেছে যে, মানুষের জন্ম ত্বক ভ্রুন তত্ত্ব সম্পর্কে। কিন্তু মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আলাকে এই বিষয়টি প্রায় ১৪৫০ বছর আগে বর্ণনা করা হয়েছে।
- আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান কিছু বছর আগেই আবিষ্কার করেছে। পুরুষই নির্ধারণ করে যে, সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে। (অর্থাৎ পুরুষের ওপরই নির্ভর করে সন্তান কি হবে) কিন্তু এই বিষয়টি কে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআনে আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে সূরা নাজমের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর আয়াত ও সুরা কিয়ামাহ'র ৩৭ থেকে ৩৯ নম্বার আয়াতে আল্লাহ তা'আলা এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
- একটি সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন সে, সবার প্রথমে কানে শোনার যোগ্যতা লাভ করে এবং পরে চোখে দেখার যোগ্যতা। যা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু প্রায় ১৪৫০ বছর আগে পৃথিবীতে ভ্রুনের বেড়ে ওঠার স্তর গুলো নিয়ে কুরআন বিস্তার আলোচনা করেছে। (সূরা সাজদাহ আয়াত ৯ ও ৭৬ এবং সূরা ইনসান আয়াত নং ২)
- আধুনিক বিজ্ঞান কিছুদিন হলো আবিষ্কার করেছে, পৃথিবী দেখতে কেমন এর আগে এটি নিয়ে মানুষের নানা ধরনের মতবাদ ভেদ ছিল। কেউ বলতো পৃথিবী চ্যাপ্টা, কেউ বলতো পৃথিবীর সমতল, কেউ বলতো পৃথিবীর লম্বা। তবে আজ থেকে ১৪৫০ বছর আগে কুরআন এ বলা হয়েছে, পৃথিবীর উটপাখি ডিমের মতো অর্থাৎ গোলাকার।
- আধুনিক বিজ্ঞান মাত্র ২০০ বছর আগে পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়ার এবং কমার রহস্য জেনেছে। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআন এর সূরা লুকমানের ২৯ নম্বর আয়াতে এই কথাটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় দর্শক আশা করি, উপরে উপস্থাপিত ১৬ টি তথ্য আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। যেগুলি আধুনিক বিজ্ঞান কিছু বছর আগে বা কয়েকশো বছর আগে আবিষ্কার করেছে, সেগুলোই কুরআনের প্রায় ১৪৫০ বছর আগে বলা হয়েছে। আশা করি, এই তথ্য গুলো আপনাদের সকলের অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে যারা মুসলমান রয়েছে, তাদের তো অনেক ভালো লেগেছে। আর যারা অমুসলিম দর্শকবৃন্দ রয়েছে, তাদেরকে আমি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করব আপনারা এই ব্যাপারটি কে একটু যাচাই করে দেখবেন। যদি তথ্য গুলো সত্যি হয়। তবে ইসলাম ধর্মের এই কথাটি সত্যি যে স্রষ্টা মাত্র একজন আর তিনি হলেন আল্লাহ তা'আলা এবং এই বিষয়টি যাচাই করার মাধ্যমে আপনারা নিজেদের জীবনকে সঠিক পথে নিয়ে আসার একটি সুযোগ পাবেন।
আসলে আমাদের সমস্যাটা হলো আমরা অনেকেই নানা ধরনের তথ্য জানি। কিন্তু সেই তথ্যটিকে মানার চেষ্টা করি না। এটা একটি মারাত্মক ভুল। যারা অমুসলিম দর্শক রয়েছে তারা যদি এর যথার্থ সত্যতা পায়। তাহলে এই জিনিসটিকে মানা তাদের অবশ্যই কর্তব্য। তবেই তারা পরকালে স্বর্গ অর্থাৎ নাথ লাভ করতে পারবে। আর সকলে বোধ থাকা উচিত। অজ্ঞতা আর বোধ এক জিনিস নয়। তার উদাহরণ স্বরূপ আমরা বলতে পারি নেশাখোর জানে যে, নেশা করলে তার শরীরের ক্ষতি হবে। কিন্তু তবু সে নেশা করে কারণ তার বোধ নেই। এটা কিন্তু অজ্ঞতা নয়। আমরা আরো একটি উদাহরণ দিতে পারি আমরা সকলেই জানি যে, অন্যের জিনিস না বলে নেওয়া ঠিক না তবুও আমরা অনেকেই রয়েছি যারা অন্যের জিনিস না বলে নেই। এটি তাদের অজ্ঞতা নয় বরং তাদের বোধ নেই। তাই আমাদের সকলের উচিত যা সত্যি তাকে সত্যি বলেই মানা এবং তাকে জীবনে মেনে চলা।
আরো পডুনঃ যে ৮টি আফসোস জীবনে কখনও রাখা উচিত।


