সহজে পড়া মুখস্থ করার অসাধারণ ১০ কৌশল ২০২২ | Study & Educational Tips.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

সম্মানিত মুসলিম দর্শকবৃন্দ, আসলামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহি। অন্য অন্য জাতি বা ধর্মাবলম্বীদের জানাই,  আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রিয় দর্শক আশা করি, আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ায় আপনারা সকলে ভাল আছেন। প্রতিদিনের মতো আজকে ও আমরা আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আর আজকের পোষ্টের মূল বিষয় হলো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য বুঝে পড়া মুখস্ত করার অভিনব কিছু কৌশল। অর্থাৎ আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের জন্য উপস্থাপন করব এমন একটি আর্টিকেল বা পোস্ট যেটির সাহায্যে আপনারা খুব সহজেই বুঝে শুনে পড়া মুখস্ত করতে পারবেন। যার ফলে আপনারা আপনাদের জীবনে বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন, এবং ভালো ফলাফল ও করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে ভালো ফলাফল করাটা খুবই জরুরী একটি বিষয়। কেননা ভালো ফলাফল ছাড়া ভালো মানুষ চাকরি বা ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ খুবই কম। এজন্য প্রথমত আমাদের ভালো ফলাফল করতে হবে এবং পরবর্তীতে এই সব স্থানে চাকরি পাওয়া ভর্তি হওয়ার জন্য আমাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। যার জন্য ও ভালো মানের পড়ালেখা ও বুঝে শুনে মুখস্ত করে পড়া শুনা করা খুবই জরুরী।

এখনকার সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়া মুখস্ত করার বিষয়টি একদমই কমে গেছে, এটি মোটে ও ঠিক না। তবে আর ও একটি বিষয় ঠিক না, যেটি হলো অনেক শিক্ষার্থী বন্ধুরা রয়েছে যারা শুধুমাত্র অন্ধের মত পড়া গুলোকে মুখস্ত করে ফেলে। পরীক্ষার হলে গিয়ে তারা সে সব ভুলে যায়, এটি ও একদম ঠিক না। পড়া মুখস্ত করতে হবে তা বুঝে শুনে। যাতে পরীক্ষার হলে গিয়ে সেই পড়া আমরা ভুলে না যাই। আর আজকের এই পোস্টে আমরা পড়া বুঝে শুনে মুখস্ত করার অভিনব ১০টি কৌশল আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। যে ১০টি কৌশল কে অবলম্বন করে আপনারা খুব সহজেই পড়াকে মুখস্থ করতে পারবেন। এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা বা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় খুব সহজে উত্তীর্ণ হতে পারবেন। তাই চলুন, বেশি কথা না বাড়িয়ে পোষ্টের মূল প্রসঙ্গে চলে যাওয়া যাক-


সহজে পড়া মুখস্থ করার অসাধারণ ১০টি কৌশলঃ-

পড়ার বিষয়কে মনোযোগ সহকারে বোঝার চেষ্টা করাঃ

শুধুমাত্র অন্ধের মত পড়া মুখস্ত করলেই হবে না। তুমি কি পড়ছো সেই বিষয়টি কে সুন্দর ভাবে বুঝতে হবে। প্রশ্নটিকে বুঝতে হবে, প্রশ্ন কি চাচ্ছে সেটিকে বুঝতে হবে। কেননা তাছাড়া তুমি যদি শুধুমাত্র অন্ধের মত পড়া মুখস্ত করো তাহলে তুমি সেটি খুব সহজেই ভুলে যাবে। তাই তোমার এই মুখস্ত করা পড়া পরীক্ষার হলে তোমার কোন কাজে আসবে না। কেননা পরীক্ষা হলে যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়, সেই চাপের কারণে তুমি খুব সহজেই তোমার সেই মুখস্ত করা ভুলে যাবে। তাই তোমাকে এক্ষেত্রে বুঝে শুনে এটি কে মুখস্ত করতে হবে। তাহলে তুমি অনেক সময় ধরে সেদিকে মনে রাখতে পারবে এবং এর পাশাপাশি যে বিষয়টি তুমি পড়ছো সেদিকে বারবার লিখতে হবে। তাহলে তুমি সেই প্রশ্নের উত্তরটি কে অনেক সময় মনে রাখতে পারবে। এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে তুমি খুব সহজেই সেই প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারবে।

বড় বিষয় গুলোকে ভাগ করে মুখস্থ করাঃ

পড়ার সময় যদি কোন বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হও। সে ক্ষেত্রে তখন সম্পূর্ণ বিষয়টি কে মুখস্ত করা খুবই কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে সেই প্রশ্নটি কে ভাগ করে পড়া। এতে পড়তে ও সুবিধা হবে এবং মুখস্ত করতে ও সুবিধা হবে। যার কারণে পড়াটি অধিক সময় মনে থাকবে এবং পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই সেটি উপস্থাপন করতে পারবে।

আগ্রহ সহকারে পরিষ্কার মস্তিষ্কে পড়াঃ

খুব সহজে পড়ার মুখস্থ করা ও অধিক সময় সেটি কে মনে রাখার জন্য। আগ্রহ সহকারে পড়তে বসতে হবে এবং মস্তিষ্ককে সব সময়ের জন্য ফ্রেশ রাখতে হবে।  কেননা তোমার যদি আগ্রহ কম থাকে, তাহলে তুমি সেই পড়াটি কে খুব সহজে মুখস্ত করতে পারবে না। আর কষ্ট করে যদি তুমি মুখস্ত ও করো তাহলে সেই পড়াটি কে তুমি অধিক সময় ধরে রাখতে পারবেনা। কারণ তোমার এখানে মনোযোগীতার অভাব ছিল। যার কারণে তুমি পরীক্ষার হলে গিয়ে তোমার মুখস্ত করা এই প্রশ্নের উত্তরটি ও তুমি সহজে দিতে পারবে না। কারণ পরীক্ষা হলের মানসিক চাপের কারণে তুমি খুব সহজেই এই প্রশ্নটির উত্তরটি ভুলে যাবে। তাই আগ্রহ সহকারে পরিষ্কার মস্তিষ্কে পড়তে বসতে হবে।

পড়ার বিষয়টি বারবার লেখাঃ

পড়া মুখস্ত করার জন্য এই প্রক্রিয়াটি খুবই কার্যকারী একটি প্রক্রিয়া। তুমি যে বিষয়টি পড়তেছ সেই বিষয়টি কে বারবার তুমি লিখতে থাকবে। তাহলে তুমি খুব সহজেই সেই বিষয়টি কে মুখস্ত করতে পারবে। এবং বারবার লেখার কারণে তুমি এই বিষয়টি খুব সহজে ভুলে ও যাবে না। আর যদি তুমি ভুলে না যাও তাহলে তুমি এটিকে অধিক সময় তোমার মস্তিষ্কে ধারণ করে রাখতে পারবে। পরীক্ষার হলে তুমি এই প্রশ্নের উত্তরটি খুব সহজেই দিতে পারবে, এবং ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলোকে চিহ্নিত করে মুখস্থ করাঃ

তোমরা সকলেই জানো বইয়ের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকে। যেগুলি স্কুলের শিক্ষক সচরাচর আমাদেরকে গুরুত্ব সহকারে পড়ার জন্য আদেশ করে থাকে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো কে খুব মনোযোগ সহকারে মুখস্ত করতে হবে। আর যেহেতু এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই এগুলি পরীক্ষা আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এগুলি নিজের মস্তিষ্কে ধারণ করে রাখা খুবই জরুরী।


ঘুমাতে যাওয়ার আগে পড়াঃ

পড়া মুখস্ত করার জন্য এই পদ্ধতিটির কার্যকারিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পড়া মুখস্ত করার ক্ষেত্রেই নয়। অন্য অন্য সকল ক্ষেত্রে ও ভাল কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অনেক দেশের ফুটবলারদের কে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফুটবল খেলার প্র্যাকটিস করতে দেখা যায়। কেননা আমরা যখন ঘুমিয়ে যাই, তখন আমাদের শরীর অসাড় হয়ে পড়ে থাকলেও আমাদের মস্তিষ্ক নিয়মিত কাজ করতে থাকে। এ কারণেই ঘুমানোর আগে আমরা যে কাজটি করি সেটি আমাদের মস্তিষ্কে ঘুমানোর সময় ও ঘুরপাক খায়। এ কারণেই যদি আমরা ঘুমানোর আগে পড়তে বসি। তাহলে সে বিষয়টি সারারাত আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে ঘুরপাক খাবে। যার কারণে পড়া মুখস্ত করা খুব সহজ হয়ে যাবে। তাই পড়া মুখস্ত করার জন্য ঘুমানোর আগে পড়তে বসা খুবই জরুরিও কার্যকারী প্রক্রিয়া।

প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করাঃ

পড়া মুখস্ত করার জন্য শুধুমাত্র সব সময় পড়লেই হবে না। নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে। এ কারণেই প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ ও চাঙ্গা থাকবে এবং পড়ার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পাই। তাই পড়া মুখস্ত করার জন্য প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করলে মানুষের হজম ক্ষমতা মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।  তাই বুঝে শুনে পড়া মুখস্ত করার জন্য নিজের শরীরকে ফিট এবং সুস্থ রাখা খুবই জরুরী। তাই প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

অন্ধের মত না পড়াঃ

অনেকে রয়েছে যারা শুধুমাত্র পড়াকে মুখস্ত করার জন্য, না বুঝেই পড়তে থাকে এবং তারা খুব সহজেই সেই পড়াটি মুখস্ত করে ফেলে। কিন্তু তারা পরীক্ষার হলে গিয়ে তা খুব সহজেই ভুলে যায়। আর এর কারণ হলো তারা না বুঝে শুধুমাত্র মুখস্ত করে গেছে। অর্থাৎ তারা অন্ধের মত পড়েছে। তাই পরীক্ষার হলে পড়াকে মনে রাখার জন্য পড়াকে মুখস্ত করার পাশাপাশি পড়ার বিষয়বস্তু কে বুঝেশু নে পড়া বুঝে শুনে পড়া মুখস্ত করলে। সেটি অধিক সময় ধরে মনে থাকে। যার ফলে সহজে সেটি ভুলে যায় না, তাই ভালো রেজাল্ট করার জন্য মুখস্ত করার পাশাপাশি যে বিষয়টি মুখস্ত করছে। সেই বিষয়টি কে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করা।

মুখস্ত পড়াকে বারবার রিভিশন দেওয়াঃ

তুমি যেই বিষয়টি কে মুখস্ত করেছ শুধুমাত্র মুখস্ত করেই, যদি সেটি কে ছেড়ে দাও। তাহলে তুমি সেটি অধিক সময় ধরে মনে রাখতে পারবে না। আর অধিক সময় ধরে মনে রাখার জন্য তোমাকে বারবার সেই পড়াটি কে পুনরায় পড়তে হবে। তাহলে তুমি সেদিকে অধিক সময় ধরে মনে রাখতে পারবে। পরীক্ষার হলে গিয়ে সেটি কে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারব। আর বারবার রিভিশন দেওয়ার কারণে তুমি পড়াটি খুব সহজে ভুলে যাবে না।


ক্লান্ত হয়ে গেলে পড়া বাদ দিয়ে বিশ্রাম নেওয়াঃ

পড়তে পড়তে যখন শরীর ক্লান্ত হয়ে যাবে, তখন পড়া বাদ দিয়ে বিশ্রাম গ্রহণ করা। যখন শরীর স্বাভাবিক অসুস্থ হবে, তখন আবার পুনরায় পড়া শুরু করা। কেননা শরীর ও মন চাঙ্গা না থাকলে পড়া সহজে মুখস্ত হবে না এবং মুখস্থ হওয়া পড়া ও বেশি সময় মনে থাকবে না। তাই তুমি পড়ার মাঝে মাঝে ৫-১০ মিনিটের জন্য বাইরে গিয়ে হাঁটাচলা করতে পারো। এতে খুব তাড়াতাড়ি তোমার শরীর রিকভারি করবে এবং পুনরায় পড়তে বসবে।






পড়া মুখস্ত করার জন্য উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো খুবই কার্যকরী প্রক্রিয়া। তবে এর থেকে ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তুমি যে বিষয়টি কে পড়তেছো সেই বিষয়টি কে আগে বোঝার চেষ্টা করা। তারপর সেটি কে পড়া এবং মুখস্থ করার চেষ্টা করা। কেননা তুমি যে বিষয় টি পড়তেছ সেটি যদি তুমি না বোঝো। তাহলে অন্ধের মত সেটি কে মুখস্ত করে লাভ কি? না বুঝার কারণে তুমি মুখস্থ থাকার পরেও পরীক্ষার সময় সেটি কে পরীক্ষার খাতায় উপস্থাপন করতে পারবে না। কেননা তুমি তো প্রশ্নটিকেই ভালোভাবে বুঝতে পারোনি। তাই পড়া কে মুখস্ত করার জন্য এবং সেটিকে পরীক্ষার খাতায় সঠিক ভাবে উপস্থাপন করার জন্য প্রশ্নটি কে বোঝা খুবই জরুরী। তাই আগে প্রশ্নটি কে বুঝে, তারপর যদি উপরে উপস্থাপিত পড়া মুখস্ত করার ১০টি কৌশল কে অনুসরণ কর। তাহলে তুমি খুব সহজেই পড়া মুখস্ত করতে পারবে। এবং পরীক্ষার খাতায় সেদি কে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে। তোমার পরীক্ষার ফলাফল কে তুমি ভালো করতে পারবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form