দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার চারটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। যার নতুন তারিখ আজ আবারো প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাতে আনা হয়েছে পরিবর্তন।
স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি: দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষা গুলো অনুষ্ঠিত হবে ১০, ১১, ১৩ ও ১৫ অক্টোবর আর ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর এর মাঝে।
আজ বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর তিনটার দিকে স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষা গুলি সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশিত হয় বোর্ডের ওয়েবসাইটে। বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হওয়া নোটিশটিতে দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলামের স্বাক্ষর ছিল।
দিনাজপুর বোর্ডের স্থগিত হাওয়া পরীক্ষার সময়সূচি: দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী স্থগিত হওয়া চারটি পরীক্ষার সময়সূচি হল ১০ অক্টোবর এ অনুষ্ঠিত হবে গণিত, পরীক্ষা ১১ ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে কৃষি পরীক্ষা, ১৩ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে রসায়ন পরীক্ষা ও ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে পদার্থ বিষয়ের পরীক্ষা। অন্য দিকে ব্যবহারিক পরীক্ষা গুলি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ই অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর এর মধ্যেই।
এই বিজ্ঞপ্তি টি প্রকাশের আগে বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর আরও একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। যেটি ১২ টার দিকে স্থগিত হওয়া চারটি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। আর সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল ১০ থেকে ১৩ই অক্টোবর এর মধ্যেই স্থগিত হওয়া এই চারটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ঠিক এর কয়েক ঘন্টা যেতে না যেতেই বেলা তিনটার দিকে আবারো নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। যে বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছিল এবং এটি পরিবর্তিত সেই স্থগিত হওয়া চারটি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি।
অন্য দিকে আবারো নতুন করে সময়সূচী নির্ধারণের পাশাপাশি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড নতুন করে প্রশ্ন ছাপানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার রাত থেকেই শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ নতুন করে প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য কাজ শুরু করে দেয়। আর এ কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা ঢাকায় চলে গিয়েছিল।
এর আগে গত মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী জেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আসে। আর এই অভিযোগের কারণেই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষার ৪ টি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। ওই রাতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, এছাড়াও পুলিশ সুপার আল আসাদ মুহাম্মদ মাহফুজ ইসলাম ভুরুঙ্গামারী থানার ও ইউনো কার্যালয়ে তিন থেকে চার ঘন্টা যাবত বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠক শেষে এই ঘটনার কারণে মামলা করা হয়। এই মামলার তদন্ত হিসেবে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবসহ তিনজন শিক্ষক কে আটক করে পুলিশ এবং তাদের কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়।
এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের পর পরেই তার পরিবর্তন করে উপরোক্ত এই সময়সূচির বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আবারও তিনজন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নতুন এই তিনজন কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্র সচিব ও।
এর আগে যে তিনজন কে গ্রেফতার করা হয়েছিল তারা হল: ভুরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রীয় সচিব মোঃ লুৎফর রহমান, এছাড়াও যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তারা হল উক্ত বিদ্যালয় এর ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক রাসেল আহমেদ ও ইসলাম শিক্ষা ও নৈতিকতা বিষয়ের শিক্ষক জুবায়ের কে।
আরো পড়ুনঃ SSC পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার উপায়।
প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সময় গত বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর এই বছরে চলমান এসএসসি পরীক্ষার গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ের চারটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কারণেই পরীক্ষার চারটি স্থগিত করে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এরপর পরপর ওই তিন সদস্যের অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে ও ১৯ সেপ্টেম্বর উক্ত বিদ্যালয় এর কেন্দ্র থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম ও ইংরেজি দ্বিতীয় বিষয়ের প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ এসেছিল। উক্ত বিদ্যালয়টি পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ার কারণে তারা গোপনে প্রশ্ন গুলোকে নিয়ে আসেন এবং সেগুলি কে হাতে লিখে নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করেন। এছাড়াও অভিযোগ আছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উক্ত প্রশ্ন পত্রের হাতের লেখা কপি গুলি ৫০০ টাকা বা তার বেশি ধরে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। আর এই প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আর সে কারণেই স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড নড়েচড়ে বসেন।
পরীক্ষার আগেই যদি প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায় তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার দরকার কি? কেউ ভালোভাবে সারা বছর পড়ে ভালো রেজাল্ট করছে, আবার কেউ এ রকম অসাধু ব্যক্তি কাছ থেকে কিছু মাত্র টাকার বিনিময়ে ফাঁস হওয়া উক্ত প্রশ্ন গুলি নিয়ে ভালো রেজাল্ট করছে। কিন্তু আসলে কি? সে ভালো কিছু করছে না অন্যায় করছে, সেটি সবারই জানা। তবে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা যদি এই রকম অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়ে। তাহলে তাদের কাছে ভবিষ্যত প্রজন্ম কি শিখবে। তাই এই বিষয়ে আমাদের সকলের সতর্ক হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকান্ড যাতে না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
প্রতিদিন এই রকম টিপস এন্ড ট্রিক মূলক আপডেট সহ শিক্ষা বিষয়ক যাবতীয় বিষয়াদি পাওয়ার জন্য "অল টিপস বাংলা" ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন।


ভাইয়া স্থগিত পরীক্ষার তারিখ বলছেন, তবে নতুন রুটিনটা দিলে ভালো হতো।
ReplyDeleteTnx.. I will try later.
Delete