করোনা নামটি পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি ভয়াবহ শব্দ। পৃথিবীর মানুষ এখন পর্যন্ত করোনা কেউ ঠিক মতো ঠেকাতে পারেনি, এমত অবস্থায় পৃথিবী যখন করোনা ভাইরাসের নিঃস্ব। তখন এ পৃথিবীতে আগমন নতুন এক মহামারীর এমত অবস্থায় পৃথিবীর মানুষ হয়ে পড়েছে দিশেহারা। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় ১২ টি দেশের ৮০ জনের অধিক ব্যক্তির শরীরে এই নতুন সংক্রমণ এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। উক্ত ভাইরাসটির নাম "মাস্কিপক্স" বলে জানা গেছে। আর এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশ প্রতিটি বন্দর স্থল এবং বিমান বন্দরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সংস্থা।
গত শনিবার (২১ মে) এই বিষয়টি নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণে শাখার
গত শনিবার (২১ মে) এই বিষয়টি নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণে শাখার
পরিচালক অধ্যক্ষ ডা. নাজমুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ল্যান্ড পোর্টসহ পোর্ট, এয়ারপোর্ট এ আমরা বাড়তি সর্তকতা জারি করেছি। এছাড়াও এয়ারপোর্টের মেডিকেল অফিসারদের কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখা পেলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া জন্য বলা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্বের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, আরো ৫০ জন এই রোগে আক্রান্ত বলে তারা মনে করছেন। তারা আরো বলতেছে যে, হয়তো এই রোগে আক্রান্ত আরো ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। সংক্রামিত সেই ৫০ জন ব্যক্তি কোন দেশের নাগরিক তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
অন্যদিকে আর এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এই সংক্রমণ সম্পুর্ণ অস্বাভাবিক একটি ঘটনা কেননা ভাইরাসটি স্বাভাবিক আবাসস্থল সংক্রামিত দেশ গুলি নয়।
মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার অতি দুর্গম অঞ্চলে এ রোগটি সাধারণত দেখা যায়। ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান দেশের ৯ টি দেশে যেমন: কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ও অস্ট্রেলিয়াতে এই মাস্কিপক্স ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়াও ইউরোপের দেশ গুলি যেমন: স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড, ও যুক্তরাজ্যের মত দেশ গুলিতে ও এই নতুন ধরনের মাস্কিপক্স ভাইরাসে আক্রমণ দেখা গিয়েছে। অনেক লোক ও এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সুনির্দিষ্ট কোন টিকা নেই। তবে গুটি বসন্তের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে এই মাস্কিপক্সের বিরুদ্ধে ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা পাওয়া যাবে। কেননা এই দুই ভাইরাসের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। আর এটি এমন একটি ভাইরাস যা সাধারণত অল্প অসুস্থতার সষ্টি করে। তারপর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যায়। এটি সাধারণত খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ে না, আর বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটি ছড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবু উক্ত রোগের কোন টিকা না থাকার কারণে উক্ত রোগে সংক্রমিত হলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এবং উক্ত রোগের উপসর্গ দেখা দিলে ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কেননা আপনার এই উপসর্গ অন্য মানুষকে ও ফেলতে পারে বিপদে যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে না তবু সাবধানতা অবলম্বন করা সকলের জন্যই ভালো।
