ফাইবারে কাজ করার নিয়ম | ফাইবারে কাজ করার সময় যে সকল কাজ কখনোই করবেন না। Fiverr Bangla Tips And Trick 2022.

ইন্টারনেটের বিস্তার করার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ এটিকে ব্যবহার করে নানা ধরনের কাজ খুব সহজেই সম্পন্ন করতে পারছে। আর এই কাজ গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল ফ্রিল্যান্সিং। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি চাইলে খুব সহজেই যে কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যের দ্বারায় করিয়ে নেওয়া যায়, এমন কাজকে খুব সহজেই করিয়ে নিতে পারছেন। এবং অনেকেই রয়েছে এই ধরনের কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে। ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই অর্থ ইনকাম করছে। আর এই মাধ্যম গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ফাইবার। আজকে আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব, কিভাবে ফাইবার একাউন্টের মাধ্যমে কাজ করার নিয়ম। ফাইবার ফ্রিল্যান্সারদের কাছে একটি পরিচিত নাম, শুধুমাত্র পরিচিত নাম বললেই ভুল হবে। এটি পরিস্থিতি ও বিশ্বস্ততার দিক থেকে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে। যারা বিগেনার রয়েছে অথবা প্রফেশনাল উভয়ের কাছেই ফাইবার মার্কেটপ্লেস খুবই বিশ্বস্ত একটি মার্কেট প্লেস। ফ্রিল্যান্সিং জগতে ফাইবারের জনপ্রিয়তা ক্রমশই দিন দিন বেড়ে চলেছে। 


ফাইবারে কাজ করার নিয়ম--  ফাইবারে কাজ করার সময় যে সকল কাজ কখনোই করবেন না।


আজকের এই পোস্টে আমরা ফাইবারে একাউন্টের মাধ্যমে করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব। আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন এবং ফ্রিল্যান্সিং করতে চান। তাহলে আপনারা খুব সহজেই ফাইবার মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। তবে অনেকেই না বিষয় না জানার কারণে অনেক সময় অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাই আজকে আমরা ফাইবার একাউন্টের মাধ্যমে কাজ করার নিয়ম গুলো সুন্দর ভাবে নিম্নে উপস্থাপন করব। তাই চলুন, কথা না বাড়িয়ে পোস্টের মূল প্রসঙ্গে চলে যাওয়া যাক-

ফাইবারের যেসব কাজ করা যাবে নাঃ

এখন আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। ফাইবার একাউন্টের মাধ্যমে কাজ করার সময় যে, সকল কাজ আপনার করা উচিত নয়। আর আপনি যদি এই সকল কাজ করে ফেলন, তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকেন যে কোনো সময় আপনার ফাইবার অ্যাকাউন্টটি চলে যেতে পারে।


ফাইবার একাউন্টে কাজ করার নিয়ম- ব্যক্তিগত কন্টাক্ট নাম্বার শেয়ারঃ

আপনি যদি ফাইবার একাউন্টে চিরস্থায়ী ভাবে কাজ করতে চান। তাহলে আপনার যে কাজ গুলো করা যাবে না। তার মধ্যে অন্যতম একটি হল ব্যক্তিগত কন্টাক নাম্বার কখনো বায়ারের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। অর্থাৎ আপনি বায়ারকে ব্যক্তিগত কোন কন্টাক্ট নাম্বার, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি, ই-মেইল এড্রেস সহ সোশ্যাল মিডিয়ার যাবতীয় ব্যক্তিগত এড্রেস বা অ্যাকাউন্ট এর তথ্য বায়ার কে কখনোই দেওয়া যাবে না। 

এর মূল কারণ হলো আপনি ফাইবার থেকে যে কাজটি করে সেই কাজটির ২০ শতাংশ ফাইবার কেটে নেয়। এবং আপনার বায়ারের কাছ থেকে ও ফাইবার ২০ শতাংশ কেটে নেয়। আর ব্যক্তিগত কোন কন্টাক্ট নাম্বার বায়ারের কাছে না দেওয়ার পদ্ধতি চালু করার পেছনে মূলত এটি কারণ।  কেননা আপনি যদি বাইরের সঙ্গে সরাসরি ব্যক্তিগত ভাবে কোন কাজ করেন। তাহলে ফাইবার সেই কাজের জন্য কোন অর্থই পাবে না। এ কারণেই ফাইবার মূলত পার্সোনাল বা ব্যক্তিগত কোন কিছু বায়ারের সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ করেছে। আর আপনি যদি এই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে ফাইবার আইডি দিয়ে আপনি হারাতে পারেন। কেননা আপনি এই নির্দেশ না মানার কারণে আপনি ফাইবারের পলিসি ভলিউশন করে ফেলবেন। আর এ কারণে আপনি আপনার ফাইবার অ্যাকাউন্ট টি চিরকালের জন্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।


ফাইবার একাউন্টে কাজ করার নিয়ম- গিগ ডিলিট করবেন নাঃ

গিট ডিলিট করার ভুল টি সব থেকে বেশি করে থাকে নতুনরা। কেননা তারা ফাইবারের একটি গিগ তৈরি করে, এবং সেটিতে দুই, তিন মাসের ভেতর কোন কাজ ছিল না। তারপর সেই গিগ ডিলিট করে, তারা আবার নতুন করে গিগ তৈরি করে ।

এই ভুলটি আপনি কখনো করবেন না, সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করেই গিগ তৈরি করুন। এক সময় না এক সময় আপনার ফাইবার একাউন্টের গিগটি রাঙ্ক করবেই। কিন্তু মাত্রা অতিরিক্ত গিগ ডিলিট করার কারণে ফাইবার আপনার প্রধান প্রোফাইলটি ডিজেবল করে দিতে পারবে। তাই গিগ ডিলিট করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। 


ফাইবার একাউন্টে কাজ করার সময় বায়ারের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন নাঃ

ফাইবার একাউন্টে কাজ করার সময় কখনই বায়ারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন না। বায়ার যদি আপনাকে কিছু ভুল তথ্য দেয়, তাহলে তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন। তবু তার সঙ্গে কোন রকম খারাপ আচরণ বা গালিগালাজ করবেন না। কেননা বায়ার যদি ফাইবারের কাছে রিপোর্ট করে, তাহলে আপনার মূল্যবান ফাইবার একাউন্টটি আপনি আপনার এই খারাপ ব্যবহার এর কারণে হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই এই ধরনের ব্যবহার করার পূর্বে আপনি আপনার ফাইবার অ্যাকাউন্টের কথা মাথায় রাখবেন।


ফাইবার অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তনঃ

ফাইবার একাউন্টের পিকচার পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে ফাইবার আপনাকে কোন প্রকার বাধা প্রদান করবে না। কেননা আপনি চাইলে দিনে তিন থেকে চার বার পর্যন্ত ফাইবার প্রোফাইলের পিকচারটি পরিবর্তন করতে পারবেন। তাতে কোন সমস্যা নেই, এতে ফাইবার আপনাকে কোন প্রকার বাধা প্রদান করবে না। আর এটি ফাইবারের পলিসি নিয়মের বাইরেও না।

তবে সমস্যার বিষয় হলো আপনার এই পিক পরিবর্তনের কারণে পূর্বে যে, সকল বায়ার আপনার থেকে কাজ করিয়ে নিয়েছে। তারা আপনাকে যদি আবার নতুন করে কাজ দিতে চায়। তাহলে তারা আপনার প্রোফাইল দেখে চিনতে পারবে না। কেননা আপনি বারবার প্রোফাইলের পিকচার পরিবর্তন করেছেন। তাই এই দিক থেকে পিকচার পরিবর্তন না করাই ভালো।


ফাইবার কন্টাক্ট সাপোর্টে মেসেজ করাঃ

ফাইবারের কন্টাক্ট সাপোর্টটি মূলত ফাইবার একাউন্টের কোন রকম সমস্যা হলে সেটিকে সমাধান করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে কাজ করতে পারে। কেননা অনেকেই রয়েছে খুবই ছোট্ট পরিমাণ সমস্যা হলেই ফাইবার কন্টাক্ট সাপোর্টে মেসেজ করে।  আর এ কারণে অনেকেই তাদের প্রোফাইল কে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলেন। তাই এমন ভুল করার পূর্বে আপনার মাথায় রাখা উচিত বড় ধরনের কোন সমস্যা ছাড়া ফাইবার কন্টাক্ট সাপোর্টে মেসেজ করা বা যোগাযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। তবে ছোটখাটো সমস্যার সমাধান করার ক্ষেত্রে আপনারা আপনাদের দেশের যারা ফাইবার কমিউনিটিতে কাজ করে, এমন বড় ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা গুলোর সমাধান করার চেষ্টা করুন।


বায়েদের করা মেসেজের রিপ্লাই দেরিতে দেওয়াঃ

বায়ারের করা মেসেজের রিপ্লাই দেরি করে দেওয়া কখন উচিত নয়। কেননা এতে করে আপনার দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। একটি হলো আপনার ফাইবার একাউন্টের রেসপন্স রেট কমে যাবে। যার ফলে আপনার একাউন্টের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও দেরিতে রিপ্লাই দেওয়ার কারণে আপনার ওই বায়ারের থেকে কাজটি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক অংশ কমে যাবে।  তাই যথা সম্ভব বায়ারের মেসেজ এর রিপ্লাই দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করবেন।


সময় মত কাজ ডেলিভারি না করাঃ

বায়াদেরকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কখনোই দেরি করবেন না। কেননা এতে আপনার সমস্যা হতে পারে। আপনি যথা সম্ভব চেষ্টা করবেন, বায়ারকে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই কাজটি দেওয়ার জন্য। এতে করে আপনার যে লাভ হবে, তা হলো বায়ার আপনাকে খুশি হয়ে বোনাস দিতে পারে। এবং আপনার একাউন্টে ভালো মানের রিভিউ দিতে পারে। এতে করে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরো দ্বিগুণ হবে। আর যদি আপনি সময় মতো কাজ ডেলিভারি না দেন, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে বায়ার বেড রিভিউ মারবে। এছাড়াও ফাইবারের নিয়ম অনুসারে আপনার একাউন্ট ধীরে ধীরে ডাউন হয়ে যাবে। এতে করে আপনার কাজ পাওয়া চান্স কমে যাবে।


ফাইবারে কাজ করার জন্য আপনাকে উপরোক্ত এই নিয়ম গুলোকে মাথায় রাখতে হবে। কেননা এগুলো মাথায় না রাখলে, আপনি আপনার অ্যাকাউন্টটি হারিয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়াও আপনি কাজ নাও পেতে পারেন। আর ফাইবারের কাজ করার পূর্বে আপনি ফাইবারের পলিসি গুলো ভালো ভাবে পড়ে নিবেন। কেননা আপনি যদি ফাইবারের পলিসি বিরোধী কোনো কার্যক্রম করেন। তা হলে ও আপনি আপনার ফাইবার একাউন্টে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

আশা করি উপরে উপস্থাপিত তথ্য গুলো আপনার ফাইবার একাউন্টের কর্মজীবনে কাজ করার সময় কাজে আসবে। এমনি তথ্য বহুল টিপস এবং ট্রিমূলক তথ্য পাওয়ার জন্য প্রতিদিন অল টিপস বাংলা ওয়েবসাইট এ ভিজিট করুন। এছাড়াও যে সকল ভিজিটর মনোযোগ সহকারে অল টিপস বাংলা ওয়েবসাইটের পোস্টষগুলি নিয়মিত পাঠ করেন। সেই সকল ভিজিটর অল টিপস বাংলা ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে জানাই, আন্তরিক ধন্যবাদ।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form