বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সম্মানিত মুসলিম দর্শকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহি। অন্য অন্য জাতি বা ধর্মাবলম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সম্মানিত দর্শকবৃন্দ আশা করছি আপনারা সকলে ভাল আছেন। আজকে আমরা আপনাদের জন্য অল টিপস বাংলা ওয়েবসাইটে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। যেখানে আমরা প্রজন্ম নিয়ে কথা বলব অর্থাৎ আগের প্রজন্ম ও এখনকার প্রজন্মের মাঝে যে পার্থক্য সেই পার্থক্য গুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করব। এবং এই পার্থক্য গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে এগুলোর মধ্যে থাকা শিক্ষণীয় বিষয় গুলোকে বের করে আনার চেষ্টা করব। যাতে আপনারা এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে নিজেদের জীবনে সফলকাম হতে পারেন। চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে শিক্ষনীয় সেই গল্পটি দেখে নেওয়া যাক।
একদিন এক ছেলে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল। আপনারা আগে কিভাবে থাকতেন।
- শীতের সময় শীত নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র নেই।
- গরমের সময় গরম নিয়ন্ত্রণের জন্য যন্ত্র নেই।
- ইন্টারনেট চালানোর জন্য ওয়াইফাই নেই।
- কোন ইন্টারনেট ব্যবস্থা নেই।
- হিসাবরক্ষক যন্ত্র নামে খ্যাত কম্পিউটার নেই।
- ঘরে বসে অনলাইনে শপিং করার উপায় নেই।
- বিনোদনের জন্য টিভির ব্যবস্থা নই।
- যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নেই।
- কাপড়চোপড় বা প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের জন্য শপিংমল নেই।
- মাল্টিপ্লেক্স নেই।
ছেলের এইসব কথা শুনে তার বাবা গম্ভীর ভাষায় উত্তর দিতে গিয়ে বললেনঃ
ঠিক যেমন তোমাদের প্রজন্ম বা জেনারেশন আজকের সাথে জীবন যাপন করে।
- সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে প্রার্থনা নেই।
- সমবেদনা নেই।
- মানুষকে সম্মান করা নেই।
- শ্রদ্ধাবান ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করার শ্রদ্ধাবোধ নেই।
- চরিত্র নেই।
- মানুষের মূল্যবান সম্পদ লজ্জা নেই।
- কোন বিনয় নেই।
- জীবন পরিচালনার সময় পরিকল্পনা নেই।
- শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য খেলাধুলা নেই।
- সাহিত্য চর্চার জন্য বই পড়া নেই।
ছেলেটির বাবা আরো বলেন, আমরা যারা ১৯৪০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছি আমরা তারাই ধন্য। আমাদের জীবন একটি জীবন্ত প্রমাণঃ-
- স্কুল থেকে এসেই বেরিয়ে যেতাম খেলার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলতাম। আমরা কখনো টিভি দেখি নাই।
- আমরা আমাদের আশেপাশের পরিচিত প্রকৃত বন্ধুদের সাথে খেলতাম। অনলাইনের বন্ধুদের সাথে খেলতাম না।
- আমরা যখন নিজেদেরকে তৃষ্ণার্ত মনে করতাম বা অনুভব করতাম, তখন আমরা কল চেপে পানি খেতাম বোতলের পানি নয়।
- আমরা কখনোই অসুস্থ হইনি যদিও আমরা চার-পাঁচ বন্ধু একসঙ্গে একই গ্লাসের জুস শেয়ার করে পান করতাম।
- আমরা প্রতিদিন প্রচুর ভাত খেতাম, তারপরে ও আমাদের ওজন বাড়েনি।
- আমাদের পায়েও কিছু হয়নি আমরা খালি পায়ে ঘুরাঘুরি করতাম।
- আমাদের মা বাবারা আমাদের কে সুস্থ রাখার জন্য কখনোই সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেনি।
- আমরা নিজেরাই নিজেদের খেলা তৈরি করতাম এবং সেই সকল খেলনা দ্বারা আমরা খেলতাম।
- আমাদের মা-বাবারা ধনী ছিলেন না তারপরেও তারা আমাদের ভালবাসা দিয়েছেন। পার্থিব উপকরণ নয়।
- আমাদের পরিচিত বন্ধু ছিল। তবে আমাদের কোন সেল ফোন, প্লে স্টোর, ভিডিও গেমস, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ইন্টারনেট চ্যাট, ডিভিডি, ও ফেসবুক একাউন্ট কোন কিছুই ছিল না।
- আমরা আমাদের বন্ধুর বাসায় বিনা নিমন্ত্রণেই যেতাম এবং তাদের সাথে খাবার ভাগ করে খেতাম।
- আমরা হয়তো সাদা কালো ফটোতে ছিলাম। কিন্তু সেই ফটোগুলো তেই আমরা রঙ্গিন স্মৃতির মাধুর্য খুঁজে পেতাম।
- আমরা এমন একটি অনন্য এবং সবচেয়ে বোধগম্য প্রজন্ম বা জেনারেশন কারণ আমরা শেষ প্রজন্ম যারা তাদের পিতা-মাতার কথা শুনেছি। আর প্রথম প্রজন্ম যারা তাদের সন্তানদের কথা শুনতে হচ্ছে।
প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়া আমাদেরকে অন্ধ করেছে এবং ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। আমরা এতটাই অলস হয়ে গেছি যে, আমরা কোন পরিশ্রম চাই তার উপকার পেতে চাই। অর্থাৎ বৃক্ষ রোপন না করেই আমরা বৃক্ষের ফল খেতে চাই। আমাদের অচার ব্যবহার এতটাই পরিবর্তন হয়েছে যে আমরা আদি সভ্যতাকে হারাতে বসেছি। উপরোক্ত গল্পটি প্রজন্মের এই পার্থক্য ও তুলনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেছে যে, প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে মানুষের অবনতি। তাই আমাদের উচিত প্রযুক্তিকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা এবং সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠা। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে এই দুই প্রজন্মের মধ্যে এপিঠ-ওপিঠ না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখা। এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অর্থাৎ আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের সম্পর্কে তাদেরক বলা। যাতে তাও প্রযুক্তির এই ভিড়ে নিজেদের সুন্দর জীবন ও মুহূর্তগুলোকে হারিয়ে না ফেলো তার দিকে লক্ষ রাখা এবং তাদেরকে সচেতন করা।
আশা করছি উপরোক্ত গল্পটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। যেখানে দুই প্রজন্মের মধ্যে কতটা পার্থক্য এবং আমাদের সমাজের কি রকম অধঃপতন হয়েছে। সেই সম্পর্কে আমরা অনিমানিক একটি অসাধারণ ধারণা পেয়েছি। তাই আমাদের উচিত সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে উন্নতির দিকে ধাবিত করা। এবং নিজের আত্মা অর্থাৎ মনের শান্তিময় কাজকর্ম পরিচালনা করা।
