বহু কল্পনা ও জল্পনার শেষে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তব রূপ আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। আজকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত সেতুর শুভ উদ্বোধন করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত সেতুর প্রথম যাত্রী হিসেবে নিজের ট্যাক্স পরিশোধের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করেন। আর এই উদ্বোধনের পর আগামীকাল থেকে সকল জনগণের জন্য পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আর এই সেতু উন্মুক্ত করার ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ অনেক উপকৃত হবে। এবং তাদের কষ্টের ভ্রমণ অর্থাৎ বিভিন্ন প্রয়োজনে আগে যে কষ্ট করে ফেরি-লঞ্চ সহ ইত্যাদি জলযানের পরিবর্তে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সরাসরি রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। আর তার ফলে তাদের জীবন আগের থেকে অনেক সহজ হবে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য ফেরানোর সেই সেতু কে নিয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের হাজারো স্বপ্ন আশা ও আকাঙ্ক্ষা আলোর মুখ দেখবে সেই সেতু সম্পর্কে অবাক করা কিছু তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো।
এক নজরে পদ্মা সেতুঃ-
- সেতুর নামঃ পদ্মা সেতু
- পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্যঃ ৬.১৫ কিলোমিটার
- পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট সহ দৈর্ঘ্যঃ ৯.৮৩ কিলোমিটার
- পদ্মা সেতুর প্রস্থঃ ২১.৬৫ মিটার
- পদ্মা সেতুর পিলারের সংখ্যাঃ ৪২ টি
- পদ্মা সেতুর স্প্যানের সংখ্যাঃ ৪১ টি
- পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্যঃ ১৫০ মিটার
- পদ্মা সেতুর স্প্যান গুলির মোট ওজনঃ ১,১৬,৩৮৮ টন
- পদ্মা সেতুর পাইলের সংখ্যাঃ ৬ টি
- কিছু কিছু পিলারে ৭ টি পাইল ও দেওয়া হয়েছে
- পদ্মা সেতুর পাইলের ব্যাসঃ ৩ মিটার
- পদ্মা সেতুর পাইলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্যঃ ১২৮ মিটার
- পদ্মা সেতুর মোট পাইলের সংখ্যাঃ ২৬৪ টি
- (ভায়াডাক্টের পিলারের পাইল সহঃ ২৯৪ টি
- পদ্মা সেতুর জমি অধিগ্রহণঃ ৯১৮ হেক্টর
- পদ্মা সেতুতে ব্যবহারিত স্টিলের পরিমাণঃ ১,৪৬,০০০ মেট্রিক টন
- পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ঃ ৭ই ডিসেম্বর ২০১৪
- পদ্মা সেতুর মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুঃ মাওয়া প্রান্তে ৬ নং পিলারের কাজ দিয়ে
- পদ্মা সেতু সক্ষমতাঃ দৈনিক ৭৫ হাজার যানবাহন
- পদ্মার পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতাঃ ১৮ মিটার
- পদ্মা সেতুর আকৃতিঃ ইংরেজি এস (S) অক্ষরের মত
- পদ্মা সেতুর ভূমিকম্পন সহনশীলতাঃ রিক্টার স্কেলে ৮ মাত্রার কম্পন
- পদ্মা সেতুর এপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্যঃ ১২ কিলোমিটার
- পদ্মা নদী শাসনঃ ১৬.২১ কিলোমিটার
- পদ্মা সেতুর আয়ুষ্কালঃ ১০০ বছর
- পদ্মা সেতুর মোট ব্যয়ঃ ৩০,১৯৩,৩৯ কোটি
৩০,১৯৩,৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের ১১ টি জেলার লোকের যাতায়াত ব্যবস্থা করবে। আরো সুন্দর তারা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত শাকসবজি সহ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য সহজেই রাজধানীতে নিয়ে যেতে পারবে এবং উচ্চমূল্যে সেই সকল দ্রব্য বিক্রি করতে পারবেন। এর ফলে তাদের অবস্থার উন্নতি হবে।
পদ্মাপাড়ের এক ব্যক্তির বলেন যে, পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এ রাস্তা দিয়ে অনেক গাড়ি চলাচল করবে যার ফলে আমার রাস্তার পাশে চায়ের দোকানটি আগের থেকে অনেক বেশি উন্নত হবে।
এরকম হাজারো স্বপ্ন পূরণ করবে পদ্মা সেতু। তাছাড়া বাংলাদেশের সকল মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে পদ্মা সেতুর কারণে বিশেষ করে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ যেমন মাওয়া, শরিয়তপুর, সুনামগঞ্জের মানুষ তো অনেক উপকৃত হবে। উপরে আমরা উক্ত সেতু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য একনজর এর মাধ্যমেই প্রকাশ করেছি। যেখানে তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়ুষ্কাল, ব্যয় সহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এত কিছু তথ্যের মাঝে আমাদের একটি পাওয়া সেটি হল পদ্মা সেতু বাস্তব রূপ নিয়েছে এবং তার শুভ উদ্বোধন হয়েছে। আগামীকাল থেকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ভালো থাকুক পদ্মাপারের সেই সব মানুষ এবং ভালো থাকুক বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবী।
