পাসপোর্ট করার নিয়ম বা উপায় ও খরচ ২০২২ | Procedure and Cost of Passport 2022

যদি কারো দেশ-বিদেশে ভ্রমণের ইচ্ছে থাকে তাহলে তার কাছে সব থেকে প্রয়োজনীয় বস্তুর নামটি হল পাসপোর্ট। কেননা পাসপোর্ট ছাড়া কোন ব্যক্তি বৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গমন করতে পারবে না। তাই আজকে আমাদের এই পোষ্টের মূল বিষয়বস্তু হলো পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ। প্রয়োজনীয় এই ডকুমেন্ট এখন যেহেতু ডিজিটালাইজেশন এর মাধ্যমে করা সম্ভব। তাই আপনারা ই-পাসপোর্ট এর মাধ্যমে খুব পাসপোর্ট তৈরি করে নিতে পারবেন। কোন প্রকার দালালের খবর বা অধিক টাকা খরচ না করেই।

বর্তমান সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করা খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটির মাধ্যমে অথবা আপনার যদি কম্পিউটার থাকে তাহলে সেটির মাধ্যমে বা আপনার নিকটস্থ কোন কম্পিউটারের দোকান থেকে আপনারা খুব সহজেই ঘরে বসেই পাসপোর্ট এর জন্য প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন। যা পূর্বের মতো এত সময় লাগে না আর কোন সমস্যা ও হয় না।

এখন আপনি আপনার পাসপোর্টের প্রাথমিক আবেদন পূরণ করার জন্য কোনরূপ পূর্ব শিডিউল ছাড়াই আপনার স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে আপনার আবেদনটি সাবমিট করতে পারবেন। আর ধারণা করা যায় আপনার সবকিছু যদি ঠিক থাকে। তাহলে আপনি আপনার কাঙ্খিত পাসপোর্টটি ১ মাসের মধ্যেই হাতে পাবেন।

আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের জন্য ২০২২ সালের পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব। এর পাশাপাশি আপনাদের সামনে আমরা একটি সফল আবেদন প্রক্রিয়া ও কি কি কাগজপত্র লাগবে তার উল্লেখ করব। তাই চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে আমাদের পোস্টের মূল প্রসঙ্গে ছেড়ে দেওয়া যাক-


ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম বা উপায়ঃ

বিভিন্ন কাগজপত্র সরকারি ভাবে ডিজিটালাইজড করার ফলে এখন অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করা অনেক সহজ। আপনি চাইলে নিজের ঘরে বসেই নিজের পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে আপনাকে ই পাসপোর্ট অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল (E-Passport Online Registration Portal) এর প্রবেশ করতে হবে। উক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই আপনি দেখতে পাবেন এপ্লাই অনলাইন (Apply online) নামে একটি বাটন পাবেন। আর সেই বাটনে ক্লিক করলেই আপনার আবেদনপত্রের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

পাসপোর্ট করার জন্য কত টাকা লাগবেঃ

সাধারণ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট ২ টি ক্ষেত্রেই ৩ ধরনের ডেলিভারি রয়েছে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরে নির্ধারিত কিছু কর্ম দিবসের মধ্যেই আপনি আপনার ই-পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন। এগুলি হচ্ছে:

  • ১.. Regular- ১৫ কর্ম দিবস
  • ২.. Express- ৮ কর্ম দিবস
  • ৩.. Super Express- ২ কর্ম দিবস

Super Express পাসপোর্ট দেশের অভ্যন্তরীণ খুবই জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে। যদি কেউ আবেদন করে সেক্ষেত্রে তাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাগিল করতে হবে। আর যদি সেই সব তথ্য ঠিক থাকে তাহলেই সে মাত্র দুই কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত পাসপোর্ট পেয়ে যাবে। 


সব ধরনের পাসপোর্ট এর জন্য একই খরচ হয় না। পাসপোর্ট এর খরচ নির্ভর করে মূলত ডেলিভারি সময় পাসপোর্টের পৃষ্ঠা এবং পাসপোর্ট এর মেয়াদের সময়সীমার উপর। অর্থাৎ উক্ত ৩ টি জিনিসের ওপর আপনার পাসপোর্ট এর মূল্য নির্ধারিত হবে।

৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার একটি ই-পাসপোর্ট এর ডেলিভারি ফি-

  • Regular passport এর ক্ষেত্রে ৪ হাজার ২৫ টাকা
  • Express passport এর ক্ষেত্রে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা
  • Super Express passport এর ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা

৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার একটি ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি আমরা আপনাদের জন্য উপরে উপস্থাপন করেছি।

১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার একটি ই-পাসপোর্ট এর ডেলিভারি ফি-

  • Regular passport এর ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা
  • Express passport এর ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৫০ টাকা
  • Super Express passport এর ক্ষেত্রে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা

এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পৃষ্ঠা সংখ্যা বৃদ্ধি না পেলে ও মেয়াদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তিনটি ক্যাটাগরির ডেলিভারি চার্জ আগের থেকে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিচে আমরা পৃষ্ঠার সংখ্যা ও মেয়াদ সংখ্যার বৃদ্ধির সঙ্গে ডেলিভারি ফি পরিবর্তন টি লক্ষ্য করব।

৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার একটি ই-পাসপোর্ট এর ডেলিভারি ফি-

  • Regular passport এর ক্ষেত্রে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা
  • Express passport এর ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা
  • Super Express passport এর ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৭৫ টাকা

এক্ষেত্রে, মেয়াদ ৫ বছর হলে ও পৃষ্ঠা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ তে এ কারণে ও উপরোক্ত তিনটি ক্যাটাগরির থেকে এখানে ডেলিভারির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

১০ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার একটি ই-পাসপোর্ট এর ডেলিভারি ফি-

  • Regular passport এর ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৫০ টাকা
  • Express passport এর ক্ষেত্রে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা
  • Super Express passport এর ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা

এক্ষেত্রে মেয়াদ সংখ্যা বৃদ্ধি ও পৃষ্ঠার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ডেলিভারির ফির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, পাসপোর্ট এর মেয়াদকাল ও পৃষ্ঠা সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডেলিভারির পরিমাণ পরিবর্তন হতে থাকে।


টাকা জমা দিতে হবে কোথায়?

আপনার ই-পাসপোর্টটির অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে। উপরে বর্ণিত শ্রেণি অনুযায়ী ফি প্রদান করতে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এবং ব্যাংক এ পেমেন্ট করার কথা বলা হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

তাই বাংলাদেশের ঢাকা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক সহ ব্যাংক এশিয়াতে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে রশিদ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও ব্যাংকের এর ডিপোজিট কারী ফরমের আবেদনকারীর নাম এবং ই-পাসপোর্টে দেওয়া আবেদনকারীর নাম একই হতে হবে। ভিন্ন হওয়া চলবে না।

এছাড়া ওই সময় আপনার জাতীয পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও দরকার হতে পারে। তাই সেটি সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এর পাশাপাশি এ অনলাইনে আবেদনের প্রিন্ট কপিটিও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

অনলাইনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে?

আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করে থাকেন। তাহলে সে ক্ষেত্রে, প্রাথমিক আবেদনের জন্য কোন পর্বে কাগজপত্র লাগবে না। তবে প্রাথমিক আবেদন সম্পূর্ণ হয়ে গেলে, আপনাকে কিছু ডকুমেন্ট সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে স্থায়ী পাসপোর্ট অফিসে। এক্ষেত্রে আপনাকে অথবা আবেদনকারীকে স্বশরীরে উপস্থিত হতে হবে। আর কি কি কাগজপত্র লাগবে সেগুলি নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-

  • অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা আবেদন পত্রের প্রিন্ট কপি।
  • আবেদনকারীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • আবেদনকারী ন্যাশনাল আইডি কার্ডের বা জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
  • আবেদনকারী যে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছে সেই টাকা জমা দেওয়ার রশিদ।

তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো জিজ্ঞাসিত সকল তথ্য সঠিক প্রদান করতে হবে। কেননা পুলিশ ভেরিফিকেশনের আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে তাদের পাওয়া তথ্য গোলমাল হলে পাসপোর্ট পাওয়াই জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাই এই বিষয়ে সাবধানতার সাথে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। যাতে এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।

আশা করছি, আপনারা সকলে উপরে উপস্থাপিত তথ্য গুলোর সম্পূর্ণ ভাবে বুঝতে পেরেছেন। উপরে আমরা আপনাদের জন্য উপস্থাপন করেছি, অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট করার নিয়ম এবং খরচ এই সম্পর্কে। আশা করছি, আপনারা আমাদের এই পোস্ট থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন। কেননা যারা নতুন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন তারা এই সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সে কারণেই আমরা আপনাদের জন্য উপস্থাপন করেছি। এখানে আমরা অনলাইনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্টে আবেদন করার পদ্ধতি ও কত টাকা খরচ হবে সেই সম্পর্কে উপস্থাপন করেছি। পরবর্তী কোনো পোস্টে ইনশাল্লাহ আমরা আপনাদের জন্য পাসপোর্ট এর ফরম সম্পর্কে সঠিক ধারণা উপস্থাপন করব। অর্থাৎ আমরা পরবর্তী কোনো পোস্টে আপনাদের জন্য পাসপোর্ট এর ফরম এবং সম্পূর্ণ ভাবে কি কি কাগজপত্র লাগে সেটি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত পোস্ট নিয়ে আসবো। ইনশাল্লাহ এতক্ষন অধীর আগ্রহ ও মনোযোগ সহকারে "অল টিপস বাংলা" ওয়েবসাইটের এই পোস্টটি পাঠ করার জন্য পাঠককে "অল টিপস বাংলা" ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানানো যাচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Contact Form